#শুল্ক

ভারত-চীনসহ এশীয় পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০% শুল্ক আরোপে মেক্সিকোর সিদ্ধান্ত

বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে বড় কারণ হলো, আগামীর যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি পর্যালোচনার আগে ওয়াশিংটনকে সন্তুষ্ট করা।

ভারত ও চীনসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেক্সিকো। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে, যা ২০২৬ সাল থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। বুধবার মেক্সিকোর সিনেটে এ সংক্রান্ত বিল অনুমোদন পেয়েছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে মেক্সিকোর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই—বিশেষ করে চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া—সেসব দেশ থেকে আমদানি করা গাড়ি, যন্ত্রাংশ, টেক্সটাইল, পোশাক, প্লাস্টিক ও ইস্পাতসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক বসবে। অধিকাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কহার সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে।

সিনেটে বিলটি ৭৬ ভোটে পাস হয়। এর বিপক্ষে ভোট দেন ৫ জন সিনেটর এবং ৩৫ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মেক্সিকোর ব্যবসায়ী সংগঠন ও কয়েকটি প্রভাবিত দেশ আপত্তি জানালেও সরকার তাদের অবস্থানে অটল থাকে।

তবে চূড়ান্তভাবে পাস হওয়া আইনটি আগের প্রস্তাবনার তুলনায় কিছুটা শিথিল। প্রাথমিক খসড়ায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ ধরনের পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থাকলেও, সংশোধিত আইনে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কহার কমানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধানত দুটি লক্ষ্য রয়েছে—আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করা এবং বাজেট ঘাটতি কমাতে আগামী বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়।

বিরোধী দল প্যান পার্টির সিনেটর মারিও ভাসকেস বলেন, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে কিছু স্থানীয় শিল্প চীনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে এবং কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাড়তি শুল্কের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই পড়বে।

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন মোরেনা দলের সিনেটর ও অর্থনৈতিক কমিটির প্রধান ইমানুয়েল রেয়েস এই সিদ্ধান্তকে দেশের শিল্প ও অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এটি শুধু রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্যনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *